ইসলামিক খবর
মার্চ ফর গাজা ২০২৫ আহ্বানে আজহারী, শায়খ আহমাদুল্লাহ ও সব ইসলামিক দল
মার্চ ফর গাজা ২০২৫ আহ্বানে আজহারী, শায়খ আহমাদুল্লাহ ও সব ইসলামিক দল
মার্চ ফর গাজা ২০২৫ আহ্বানে আজহারী, শায়খ আহমাদুল্লাহ ও সব ইসলামিক দল
মূল বিষয়বস্তু
- “মার্চ ফর গাজা ২০২৫” সম্ভবত একটি প্রতিবাদী সমাবেশ, যা ১২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এটি Palestine Solidarity Movement Bangladesh কর্তৃক আয়োজিত এবং মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন।
- আজহারী তার ভিডিও বার্তায় ইমাম ও খতিবদের জুমার খুতবায় জনগণকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে বলেছেন, যাতে সমাজের একাত্মতা প্রকাশ পায়।
- পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সমাবেশ বিকেল ৩টা থেকে শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে, যার মাধ্যমে গাজার প্রতি সংহতি ও ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ
“মার্চ ফর গাজা ২০২৫” একটি প্রতিবাদী সমাবেশ, যা আগামী ১২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে Palestine Solidarity Movement Bangladesh। এটি গাজার জনগণের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ এবং ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বহু নিরীহ সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।
আজহারীর আহ্বান
মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী, একজন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও স্কলার, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি নিজেও এই মার্চে অংশ নেবেন। তিনি সাধারণ জনগণের পাশাপাশি দেশের খতিবদের আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাঁরা জুমার খুতবায় মানুষকে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে উৎসাহ দেন।
তিনি বলেছেন:
“১২ এপ্রিল বিকেল ৩টায় শাহবাগ থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত মার্চে আমি নিজে অংশগ্রহণ করবো, ইনশাআল্লাহ। আপনারাও দলে দলে অংশ নিন এবং ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি আমাদের ভালোবাসা প্রকাশ করুন।”
এই আহ্বান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ১১ এপ্রিল শুক্রবারে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে জুমার নামাজে অংশ নেওয়া লাখো মানুষের কাছে বার্তাটি পৌঁছাবে।
অংশগ্রহণ ও গুরুত্ব
এই মার্চ বাংলাদেশের প্যালেস্টাইনের প্রতি ঐতিহাসিক সমর্থনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে। এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠন অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অংশগ্রহণকারী সংগঠনের তালিকায় রয়েছে:
- বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (NDP), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, AB পার্টি, হেফাজতে ইসলাম, জাতীয় দল (Jatiyo Dal), তাবলিগ জামাত, আহলে হাদীস, হায়াতুল উলামা, বেফাকুল মাদারিস, দারুন্নাজাত মাদ্রাসা, খিলাফত মজলিস, খিলাফত আন্দোলন ইত্যাদি।
এছাড়াও বিভিন্ন জনপ্রিয় বক্তা, সেলিব্রিটি, ক্রীড়াবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব যেমন:
- মাওলানা আব্দুল মালেক (বায়তুল মোকাররমের খতিব)
- মাহমুদুর রহমান (আমার দেশ সম্পাদক)
- আয়মান সাদিক, আরজে কিবরিয়া, মাহমুদুল হাসান সোহাগ, এবং
- লতিফুল ইসলাম শিবলি প্রমুখ
এতে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘর্ষের ফলে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বোমাবর্ষণ, অবরোধ, ও চিকিৎসার অভাবে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের পাশে থেকেছে – ১৯৬৭ সালের যুদ্ধ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অব্যাহত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
এই কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদ নয় বরং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি মানবিক ও কূটনৈতিক বার্তা যা বিশ্বকে ফিলিস্তিনের সংকটের দিকে নজর দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
আয়োজন সংক্ষেপ (টেবিল আকারে)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ইভেন্টের নাম | ‘মার্চ ফর গাজা’ (March for Gaza) সংহতি সমাবেশ |
| আয়োজক | Palestine Solidarity Movement Bangladesh |
| স্থান | সুহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা (মার্চ রুট: শাহবাগ → মানিক মিয়া এভিনিউ) |
| তারিখ ও সময় | ১২ এপ্রিল ২০২৫, বিকেল ৩টা |
| আহ্বানকারী | মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী |
| আহ্বানের মাধ্যম | ১১ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১০:৩০ টায় ফেসবুক পোস্ট |
| খতিবদের উদ্দেশে বার্তা | জুমার খুতবায় অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়ার অনুরোধ |
| অতিরিক্ত আহ্বান | শায়খ আহমাদুল্লাহ (As-Sunnah Foundation চেয়ারম্যান), ফেসবুক পোস্টে |
| অংশগ্রহণকারী সংগঠন | বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, হেফাজত, তাবলিগ, সেলিব্রিটি ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব |
| প্রকাশের সময় | ১১ এপ্রিল ২০২৫, সকাল ১১:২১ |
উপসংহার
“মার্চ ফর গাজা ২০২৫” বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি, যা ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাওলানা আজহারীর সক্রিয় আহ্বান ও ধর্মীয় যোগাযোগের কৌশল এই মার্চে বিপুল জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এটি কেবল একটি প্রতিবাদ নয়, বরং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শান্তির পক্ষে একটি জোরালো বার্তা।