News
রোনালদোর ছায়া? তবু কেন বদলানো হলো না কিংবদন্তিকে – মার্তিনেজের নীরব বার্তা কি অন্য কিছু?
রোনালদোর ছায়া? তবু কেন বদলানো হলো না কিংবদন্তিকে – মার্তিনেজের নীরব বার্তা কি অন্য কিছু?
রোনালদোর ছায়া? তবু কেন বদলানো হলো না কিংবদন্তিকে – মার্তিনেজের নীরব বার্তা কি অন্য কিছু?
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এই নামটা শুনলে একসময় গোল আর জয়ের ছবি ভেসে উঠতো চোখে। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে যে রোনালদোকে দেখা গেল, সেটা তাঁর নামের পাশে কতটা মানায়, এই প্রশ্ন এখন ফুটবল দুনিয়ার মুখে মুখে। ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন, বল স্পর্শ করেছেন মাত্র ২৬ বার, তিনটি শট নিয়েছেন, কিন্তু একটাও লক্ষ্যে যায়নি। দলও ১-১ গোলে ড্র করে হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। এরপর থেকেই একটা প্রশ্ন রীতিমতো ঝড় তুলেছে – কেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ রোনালদোকে বদলি করলেন না?
ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন রোনালদো। তাঁর ফিটনেস নিয়ে কারোরই তেমন প্রশ্ন নেই, বয়স যেন তাঁর কাছে একটা সংখ্যা মাত্র। কিন্তু খেলায় সেই পুরনো ধার, সেই আগ্রাসী মনোভাব, সেই চেনা গোলক্ষুধা কি আছে? বিশ্বকাপের আগে থেকেই ফিসফাস ছিল। আর টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের পর সেই ফিসফাস এখন রীতিমতো চিৎকার হয়ে উঠেছে। সত্যিই, মাঠে যেন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো। এমন একজন খেলোয়াড়কে, যিনি ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তেমন কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেননি, তাকে দ্বিতীয়ার্ধে কেন তুলে নেওয়া হলো না? এই প্রশ্নটা যেন হাজারো ফুটবলপ্রেমীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
ম্যাচ শেষে এক সাংবাদিক সরাসরি মার্তিনেজকে এই প্রশ্নটা করেছিলেন। কোচের উত্তর ছিল বেশ সোজাসাপটা, কিন্তু তাতে বিতর্কের আগুন আরও বেড়েছে বৈ কমেনি। মার্তিনেজ বলেছেন, “যে ম্যাচে গোল দরকার, সেখানে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার কোনো যুক্তি তিনি দেখেননি।” গোল দরকার? বিশ্বের সেরা গোলদাতা? ঠিক আছে। কিন্তু যেই সেরা গোলদাতা গত দশটা বড় টুর্নামেন্টের ম্যাচে গোল পাননি, ওপেন প্লে থেকে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তাঁর শেষ গোলটা এসেছিল ২০২১ সালের ১৯ জুন, তাকে মাঠে রেখে কী লাভ হলো? এই প্রশ্নটা কি অযৌক্তিক?
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে গোল না পাওয়ায় রোনালদোর বড় টুর্নামেন্টে গোলখরা আরও দীর্ঘ হয়েছে। বিশ্বকাপ আর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে টানা দশ ম্যাচ ধরে তিনি গোলহীন। ভাবা যায়? রোনালদোর মতো একজন কিংবদন্তির জন্য এটা কতটা হতাশার! আমার তো মনে হয়, কোচ হয়তো রোনালদোর অভিজ্ঞতা আর সামান্য এক ঝলক জাদু দেখার আশায় ছিলেন। হয়তো ভেবেছিলেন, যেকোনও মুহূর্তে একটা গোল এনে দিতে পারেন তিনি। কিন্তু সেই জাদু তো আর দেখা গেল না। উল্টো মনে হলো, মাঠে একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলছে পর্তুগাল।
তবে মার্তিনেজ কিন্তু শুধু রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন না। তাঁর মূল উদ্বেগ হলো দলের সামগ্রিক খেলা নিয়ে। রোনালদো কোনো প্রভাব ফেলতে পারছেন না, সেটা বোঝার পরও তাকে পুরো সময় খেলানো নিয়ে তিনি যা বলেছেন, তা আসলে তাঁর দলের খেলার ধরন নিয়েই ইঙ্গিত দেয়। মার্তিনেজের কথায়, “যে ম্যাচে আপনার গোল দরকার, সেখানে বিশ্বের সেরা গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।” কিন্তু যদি সেই সেরা গোলদাতা সেদিন গোলই না পান, তাহলে কী হবে? এই প্রশ্নটা মার্তিনেজ এড়িয়ে গেছেন। হয়তো তিনি অন্য কিছু বোঝাতে চেয়েছেন।
সত্যি বলতে কী, পর্তুগাল ম্যাচের শুরুটা দারুণ করেছিল। জোয়াও নেভেসের গোলে ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। কিন্তু এরপরই ছন্দ হারায়। গোটা ম্যাচে তারা মাত্র ছয়টি শট নিতে পারে। এটা কি পর্তুগালের মতো দলের জন্য মানানসই? একদমই না। মার্তিনেজ মনে করেন, গোল করার পর দ্বিতীয় গোলের খোঁজে না গিয়ে বলের দখল ধরে রাখার প্রবণতাই তাদের কাল হয়েছে। “সাধারণত গোল করার পর সেই আবেগ দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং দ্বিতীয় গোলের দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে উল্টোটা হয়েছে। আমরা ঝুঁকি নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম। শুধু বলের দখল ধরে রাখতে চেয়েছি,” বলেছেন কোচ। এটা একটা গুরুতর সমস্যা। প্রথম গোল পেয়েই গা ছাড়া ভাব, এটা তো চ্যাম্পিয়ন দলের লক্ষণ হতে পারে না।
কিন্তু মার্তিনেজ এখনই বিশ্বকাপের পরের পথচলা নিয়ে আতঙ্কিত নন। তিনি বেশ শান্ত। বিশ্বকাপের ইতিহাস টেনে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, শুরুটা খারাপ হলেও শেষটা সাফল্যময় হতে পারে। “বিশ্বকাপে এমন ঘটনা ঘটে। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছিল। ২০১০ সালে স্পেন সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তখন তাদের পারফরম্যান্সও ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়নের মতো মনে হয়নি,” কোচের এই কথায় আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। হয়তো তিনি চান, দল এখনই ঘাবড়ে না যাক।
‘কে’ গ্রুপে পর্তুগালের পরের ম্যাচ ২৩ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা উজবেকরা নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে। এটা পর্তুগালের জন্য একটা সুযোগ। এই ম্যাচটা তাদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর মোক্ষম সুযোগ। তবে প্রশ্নটা থেকেই যায়, রোনালদো কি তাঁর হারানো ছন্দ ফিরে পাবেন? নাকি কোচ মার্তিনেজ এবার অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করবেন? রোনালদোর মতো একজন লিজেন্ডকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন, কিন্তু দলের ভালোর জন্য সেটা কি জরুরি হয়ে পড়বে না? সময়ই বলে দেবে। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগালের পথটা যে মসৃণ হবে না, সেটা প্রথম ম্যাচই বুঝিয়ে দিয়েছে। আর রোনালদোর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন, সেটা তো আরও গভীর হয়েছে। আশা করি, পরের ম্যাচে অন্য এক পর্তুগালকে দেখব আমরা। নইলে বিশ্বকাপে তাদের স্বপ্ন হয়তো শুরুতেই ফিকে হয়ে যাবে।
সূত্রপাত: prothomalo.com
গুগলে আমাদের আপডেট পেতে:
Add amir info bangla as a Preferred Source