Connect with us

News

ফেসবুক-মেসেঞ্জার বন্ধ: হঠাৎ থমকে গেল ডিজিটাল জীবন! বিশ্বজুড়ে হাহাকার!

Published

on

ফেসবুক-মেসেঞ্জার বন্ধ: হঠাৎ থমকে গেল ডিজিটাল জীবন! বিশ্বজুড়ে হাহাকার!

ফেসবুক-মেসেঞ্জার বন্ধ: হঠাৎ থমকে গেল ডিজিটাল জীবন! বিশ্বজুড়ে হাহাকার!

Advertisement

ফেসবুক-মেসেঞ্জার বন্ধ: হঠাৎ থমকে গেল ডিজিটাল জীবন! বিশ্বজুড়ে হাহাকার!

আজকের রাতটা যেন ডিজিটাল বিশ্বের জন্য একটা দুঃস্বপ্ন হয়ে নেমে এলো। হঠাৎ করেই সবার প্রিয় ফেসবুক আর মেসেঞ্জার যেন থমকে দাঁড়িয়েছে, আর এতে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেন মুহূর্তের মধ্যে এলোমেলো হয়ে গেল। কি একটা কাণ্ড বলো!

Advertisement

ঠিক যখন ঘড়ির কাঁটা রাত ৯টা ৩২ মিনিটে (বাংলাদেশে সময়: ৭টা ৩০মিনিটে) , ১২ জুন ২০২৬ তারিখে, তখন সর্বশেষ খবর পাওয়া যায় যে, বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষ ফেসবুক এবং মেসেঞ্জারে ঢুকতে পারছেন না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইউল্যাড (UNILAD) তো সাফ জানিয়েই দিয়েছে, একটা বিশাল বিভ্রাট চলছে। আমি নিজেও খানিকক্ষণ অবাক হয়েছিলাম, ভেবেছিলাম আমার নেটওয়ার্কেই বুঝি কোনো সমস্যা! কিন্তু না, ব্যাপারটা যে আরও গুরুতর, তা বুঝতে দেরি হয়নি।

ব্যাপারটা আসলে কী? অনেকেই হঠাৎ করে নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট হয়ে গেছেন। আর লগইন করতে গেলেই সেই পরিচিত ‘আনএক্সপেক্টেড এরর অক্যার্ড’ লেখাটা ভেসে উঠছে। মানে, ‘অপ্রত্যাশিত কিছু একটা ভুল হয়েছে’ – এই বার্তা। এটা কি কথা হলো? যেখানে বিশ্বের একটা বড় অংশের মানুষের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, এমনকি আনন্দ-বিনোদনও এখন ফেসবুক-নির্ভর, সেখানে এমন একটা বিভ্রাট সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন।

Advertisement

শুধু লগইন সমস্যা নয়, মূল ফেসবুক ওয়েবসাইটে গেলে তো দেখি আরও গোলমাল। সেখানে দেখাচ্ছে, ‘সামথিং ওয়েন্ট রং’ অর্থাৎ ‘কিছু একটা ভুল হয়েছে’ এবং কোম্পানি নাকি ‘এটা ঠিক করার জন্য কাজ করছে’। কাজ তো করছে, কিন্তু কতক্ষণে ঠিক হবে, সেটাই তো আসল প্রশ্ন। মানুষজন অধৈর্য হয়ে উঠেছে, চারিদিকে চলছে হাহাকার আর জল্পনা-কল্পনা।

এই সমস্যা কিন্তু শুধু এক জায়গায় নয়, বিশ্বজুড়েই ছড়িয়েছে। আমেরিকা আর ফিলিপাইন্স থেকে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসছে। আমাদের বাংলাদেশেও তো বহু মানুষ এর শিকার। কতজনের যে জরুরি কাজ আটকে গেল, অফিসের চ্যাট বন্ধ হয়ে গেল, বা প্রিয়জনের সাথে কথা বলতে পারল না – তার হিসাব কে দেবে! একটা ছোট ভাই তো প্রায় কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিল, কারণ তার অনলাইন ক্লাস গ্রুপ চলছিল মেসেঞ্জারে। এমন পরিস্থিতিতে সত্যি বলতে, মানুষের অসহায়ত্বটা চোখে পড়ার মতো।

Advertisement

আউটরেজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ইজডাউন’ এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৭০০-এরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকেই তারা নাকি ফেসবুকের সেবায় সক্রিয় সমস্যা দেখছে। মানে, সমস্যাটা যে বেশ কিছুক্ষণ ধরেই দানা বাঁধছিল, সেটা এখন স্পষ্ট। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, মেটার কিন্তু সাধারণ ইউজারদের জন্য কোনো অফিশিয়াল ‘স্ট্যাটাস পেজ’ নেই। তারা শুধু তাদের বিজনেস টুলসের জন্য একটা পেজ রেখেছে, কিন্তু খবর লেখার সময় পর্যন্ত সেখানেও এই বিভ্রাট নিয়ে কোনো আপডেট দেওয়া হয়নি। এটা তো খুবই হতাশাজনক, তাই না? মানুষজন জানতে চাইছে কী হচ্ছে, কখন ঠিক হবে। অথচ মেটা যেন মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমি তো মনে করি, এই ধরনের পরিস্থিতিতে তাদের আরও স্বচ্ছ থাকা উচিত, অন্তত একটা প্রাথমিক বার্তা তো দিতে পারে!

একটা গ্রাফিক্স বলছে, ১২ জুন ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটেই অভিযোগের সংখ্যা যেন আকাশ ছুঁয়েছে। সাধারণত যেখানে অভিযোগের সংখ্যা মোটে ১১টা ছিল, সেখানে হঠাৎ করে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮টি! ভাবা যায়! বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে এই সংখ্যাটা যেন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। রাত ৯টার দিকে তো একেবারে চূড়ায়। মানে, মানুষজন যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অনেকে টুইটারে (এখন এক্স) গিয়ে অভিযোগ করছে, কেউ কেউ আবার অন্য বন্ধুদের ফোন করে খবর নিচ্ছে।

এই যে হঠাৎ করে একটা প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হয়ে গেল, এতে যে কতজনের ক্ষতি হলো, তার তালিকা তো বলে শেষ করা যাবে না। যারা ছোট ব্যবসা চালান, তারা তাদের কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। যারা অনলাইন ক্লাস করেন, তারা ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না। আবার যারা প্রবাসী, তারা তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে মেসেঞ্জার ব্যবহার করেন, তাদের অবস্থা তো আরও খারাপ। কতজনের যে মন খারাপ হয়ে গেল, তার ইয়ত্তা নেই।

Advertisement

আসলে, আমরা কতটা যে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি, আজকের এই ঘটনাটা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। একটা ছোট বিভ্রাট, আর তাতে পুরো জীবনযাত্রা যেন থমকে যায়। সত্যি বলতে, এই ডিজিটাল যুগে এমনটা মেনে নেওয়া কঠিন। প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু যখন এমন কিছু ঘটে, তখন বোঝা যায় এর দুর্বল দিকটাও।

তো, এই বিভ্রাট কতক্ষণ চলবে, সেটা কেউই জানে না। মেটা তাদের ‘কাজ করছে’ বললেও, কখন সব ঠিকঠাক হবে, তার কোনো স্পষ্ট বার্তা নেই। তবে একটা জিনিস স্পষ্ট, আমাদের ডিজিটাল অবকাঠামো কতটা ভঙ্গুর হতে পারে। আশা করা যায়, মেটা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবে। আর ব্যবহারকারীরা যেন আবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে, নিজেদের ডিজিটাল জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে। আর হ্যাঁ, পরের বার এমন কিছু হলে, কোম্পানি যেন অন্তত দ্রুত একটা আপডেট দেয়, সেটাই তো প্রত্যাশা।

Advertisement

বিস্তারিত আসছে

Advertisement

Advertisement

গুগলে আমাদের আপডেট পেতে:

Add amir info bangla as a Preferred Source Google Preferred
Continue Reading
Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement