Connect with us

News

ভেতরের শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ: মুজাহাদা – আমাদের জীবনের আসল লড়াই!

Published

on

ভেতরের শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ: মুজাহাদা – আমাদের জীবনের আসল লড়াই!

ভেতরের শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ: মুজাহাদা – আমাদের জীবনের আসল লড়াই!

মানুষ হিসেবে আমরা সবাই শান্তি খুঁজি, আরাম চাই। সকালে আরামসে ঘুম ভাঙা, পছন্দের কাজ করা, কোনো চাপ না থাকা – এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে, বলুন? কিন্তু সত্যি বলতে কী, আমাদের ভেতরের এক গুপ্তচর সব সময় আমাদের আরামপ্রিয় করে তুলতে চায়, ভালো কাজ থেকে দূরে সরাতে চায় আর মন্দ কাজের দিকে ঠেলে দেয়। এই গুপ্তচরের নামই হলো ‘নাফস’ বা আমাদের প্রবৃত্তি। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রুটা বাইরের কেউ নয়, বরং লুকিয়ে আছে আমাদের নিজেদের ভেতরেই!

ইসলামে এই ভেতরের শত্রুর বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধ ঘোষণা করাকে বলা হয় মুজাহাদা (المجاهدة)। কী অদ্ভুত না? যুদ্ধ করব কার সঙ্গে? নিজের সঙ্গেই! ব্যাপারটা আসলে যতটা কঠিন শোনায়, তার চেয়েও গভীর।

Advertisement

নাফস: আমাদের ভেতরের সেই দুষ্টু বন্ধু!

নাফস জিনিসটা আসলে কী? ধরুন, এটা আপনার এমন একটা সত্তা যা জন্মগতভাবেই খারাপের দিকে ঝুঁকতে চায়। ভালো কাজ করতে গেলে গা এলিয়ে দেয়, আর খারাপ কাজের সুযোগ পেলে লাফিয়ে ওঠে। আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন:

وَمَآ أُبَرِّئُ نَفۡسِيٓۚ إِنَّ ٱلنَّفۡسَ لَأَمَّارَةُۢ بِٱلسُّوٓءِ

Advertisement

“আর আমি নিজকে নির্দোষ মনে করি না, কেননা, নিশ্চয় মানুষের নাফস খারাপ কাজের নির্দেশ দিয়েই থাকে।” (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫৩)

একদম পরিষ্কার কথা! এই নাফস চায় আরামে থাকতে, শান্তিতে দিন কাটাতে। সে তাৎক্ষণিক ভোগবিলাস ভালোবাসে, বর্তমানের মজা ছাড়া আর কিছু বোঝে না। ভবিষ্যতের ভয়াবহ পরিণতির কথা তার মাথাতেই ঢোকে না। যেন এক বেপরোয়া কিশোর, যে শুধু আজকের আনন্দটুকু বোঝে, কাল কী হবে তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। আর মজার ব্যাপার হলো, এই বেপরোয়াপনার পরিণতি কিন্তু তার নিজেরই জন্য চরম দুর্ভাগ্য আর কষ্ট নিয়ে আসে। অথচ সে তা বুঝতে চায় না।

Advertisement

তাহলে কী করব? নাফসের লাগাম টেনে ধরব কীভাবে?

যখন একজন মুসলিম এই বাস্তব সত্যটা বুঝে ফেলেন যে, তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তার নিজের নাফস, তখন তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেন এই নাফসকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। এটা এক কঠিন সংগ্রাম, ভাই! এটা কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। এক অর্থে সে তার নিজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। কল্পনার চোখে দেখুন, সে যেন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ময়দানে নেমেছে, তার বিপক্ষেই লড়ছে। তার বুদ্ধিহীনতা, অস্থিরচিত্ততা, লোভ-লালসা—সবকিছুর বিরুদ্ধে সে একাই যোদ্ধা।

ব্যাপারটা এমন:

Advertisement
  • নাফস যখন শান্তি আর আরাম চাইবে, সে তাকে সেই সুযোগ দেবে না। বরং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে।
  • যখন লোভ-লালসার ফাঁদে পড়তে চাইবে, সে তাকে কঠোরভাবে তা থেকে বিরত রাখবে। হারাম ঘোষণা করে দেবে।
  • কোনো ভালো কাজ বা আনুগত্যে ত্রুটি করলে, অথবা কাজটা করাই বাদ দিয়ে দিলে? তখন তাকে শাস্তি দেবে, তিরস্কার করবে। তারপরও সে যে কাজটা করতে পারেনি, তাকে জোর করে তা করাবে। যা বাদ পড়েছে, তার কাযা আদায় করতে বাধ্য করবে।

এভাবে সে ক্রমাগত তার নাফসকে ট্রেনিং দেবে, শাসন করবে। যতক্ষণ না তার মন প্রশান্তি পায়, পবিত্রতা অনুভব করে। এই যে নিজের নাফসের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো, এটাই হলো আসল মুজাহাদা। আর এটা কিন্তু একেবারেই সহজ কাজ নয়, রীতিমতো পাহাড় ডিঙানোর মতো।

জানেন তো, আল্লাহ তা’আলা কী বলেছেন?

وَٱلَّذِينَ جَٰهَدُواْ فِينَا لَنَهۡدِيَنَّهُمۡ سُبُلَنَاۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَمَعَ ٱلۡمُحۡسِنِينَ

Advertisement

“আর যারা আমাদের পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমরা তাদেরকে অবশ্যই আমাদের পথসমূহের হিদায়াত দিব। আর নিশ্চয় আল্লাহ মুহসিনদের সঙ্গে আছেন।” (সূরা আল-‘আনকাবুত, আয়াত: ৬৯)

কী দারুণ এক প্রতিজ্ঞা! যারা চেষ্টা করে, তাদের জন্য পথ খুলে যায়। আল্লাহ নিজেই তাদের পথ দেখান। এর চেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আর কী হতে পারে?

Advertisement

সৎকর্মশীলদের পথ: মুজাহাদার বাস্তব উদাহরণ

যখন একজন মুসলিম আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার নাফসকে এমনভাবে তৈরি করে, যাতে সেটা পবিত্র, পরিশুদ্ধ ও প্রশান্ত হয়, তখন সে বুঝতে পারে যে, এটাই আসলে সৎকর্মশীল আর সত্যিকারের মুমিনদের রাস্তা। তখন সে তাদের দেখানো পথ ধরে হাঁটতে শুরু করে। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে।

ভাবুন তো একবার, আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা! তিনি রাতে এত বেশি নফল সালাত আদায় করতেন যে, তাঁর পবিত্র দু’খানা কদম মুবারক ফুলে যেত। যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, “কেন এত কষ্ট করেন?”, তিনি কী জবাব দিয়েছিলেন জানেন?

Advertisement

« أَفَلا أُحِبُّ أنْ أكُونَ عَبْداً شَكُوراً » . (مُتَّفَقٌ عَلَيهِ).

“আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়াটাকে পছন্দ করব না?” (বুখারী, হাদিস নং- ৪৫৫৭; মুসলিম, হাদিস নং- ৭৩০২)

Advertisement

এই ছিল তাঁর মুজাহাদা! কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য নিজের আরামকে বিসর্জন দেওয়া।

আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে কী বলেছেন শুনুন:

Advertisement

« والله ، لقد رأيت أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم وما أرى شيئا يشبههم كانوا يصبحون شعثاً غبراً صُفراً قد باتوا لله سجداً وقياماً ، يتلون كتاب الله يراوحون بين أقدامهم و جباههم ، و كانوا إذا ذُكر الله مادوا كما يميد الشجر فى يوم الريح ، وهملت أعينهم حتى تبل ثيابهم » .

“আল্লাহর কসম! আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে দেখেছি এবং আমি তাঁদের মত কোনো সৃষ্টিকে দেখিনি—তাঁদের সকাল হতো আউলা কেশে ধূলা মাখানো বেশে ফ্যকাশে চেহারায়, তাঁরা রাতযাপন করেন আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদারত ও দাঁড়ানো অবস্থায়; তাঁরা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করতেন পালাক্রমে তাঁদের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে ও কপাল মাটিতে রেখে সিজদারত অবস্থায়; আর তাঁদের যখন আল্লাহর কথা স্মরণ হয়, তখন তাঁরা এমনভাবে আন্দোলিত হয়, যেমনিভাবে ঝড়ের দিনে গাছপালা আন্দোলিত হয় এবং তাঁদের চোখের অশ্রুতে ভেসে তাঁদের কাপড়সমূহ ভিজে যেত।” (আবু বকর আল-জাযায়েরী, মিনহাজুল মুসলিম, পৃ. ১২৩)

Advertisement

ভাবতে পারেন? এমন ছিল তাঁদের অবস্থা! রাতভর ইবাদত করে তাঁদের সকাল হতো বিপর্যস্ত রূপে, কিন্তু তাঁদের অন্তর ছিল প্রশান্ত। এটা কি সাধারণ কোনো ব্যাপার? নিশ্চয়ই না। এটা ছিল মুজাহাদা!

আবূ দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তো সরাসরি বলেছেন, “যদি তিনটি জিনিস না থাকত, তাহলে আমি একদিনও বেঁচে থাকাটাকে পছন্দ করতাম না: ১. প্রচণ্ড তাপের সময় আল্লাহর জন্য তৃষ্ণার্ত থাকা (অর্থাৎ সাওম পালন করা), ২. মধ্য রাতে আল্লাহকে সিজদা করা, এবং ৩. এমন সম্প্রদায়ের সাথে উঠা-বসা করা, যারা এমনভাবে বাছাই করে ভালো ভালো কথা বলে, যেমনিভাবে (খাওয়ার সময়) ভালো ভালো ফলগুলো বাছাই করা হয়।” (প্রাগুক্ত)

Advertisement

এই হলো মুজাহাদার উদাহরণ। নিজের আরামের ওপর আল্লাহর ইবাদতকে প্রাধান্য দেওয়া।

মুজাহাদার আরও কিছু অবিশ্বাস্য গল্প

উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, ইসলামের এক মহান শাসক! একদিন আসরের সালাত জামায়াতে আদায় করতে পারেননি। এই সামান্য একটি কারণে তিনি নিজেকে এত তিরস্কার করলেন যে, দুই লক্ষ দিরহাম মূল্যের জমি সাদকা করে দিলেন! দুই লক্ষ দিরহাম! আজকের দিনে এর মূল্য কত হতে পারে, ভেবেছেন? এটা ছিল তাঁর মুজাহাদা। নিজের ভুলের জন্য নিজেকে শাস্তি দেওয়া।

Advertisement

আর আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা? তিনি যখন কোনো সালাত জামায়াতে আদায় করতে ব্যর্থ হতেন, তখন সেই রাতের পুরোটাই জেগে থাকতেন। পরের দিন মাগরিবের সালাত আদায় করা পর্যন্ত দিনের বেলায়ও ঘুমাতেন না। এমনকি রাতের আকাশে তারা দেখা যাওয়ার পর তিনি দু’টি গোলাম আযাদ করে দিতেন! আমাদের মতো হলে হয়তো আমরা বলতাম, “আহ, আজ মিস হয়ে গেল! কী আর করা?” কিন্তু তাঁরা ছিলেন অন্য ধাতুতে গড়া মানুষ।

আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এমন মানুষদের সম্পর্কে বলতেন:

Advertisement

« رحم الله أقواما يحسبهم الناس مرضى ، وما هم بمرضى »

“আল্লাহ ঐসব সম্প্রদায়ের প্রতি রহম করুন, জনগণ যাদেরকে অসুস্থ মনে করে, অথচ তারা অসুস্থ নন।” (আল-গাযালী, এহইয়াউ ‘উলুমিদ্ দীন, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪০৮)

Advertisement

সত্যিই, সাধারণ মানুষের চোখে তাঁদের আচরণ অস্বাভাবিক লাগতে পারে। কিন্তু আসলে তাঁরা ছিলেন স্বীয় নাফসের উন্নয়নে কঠোর সাধনা করা মানুষ। এটা কোনো অসুস্থতা ছিল না, ছিল মুজাহাদা!

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বলেছেন:

Advertisement

« خَيرُ النَّاسِ مَنْ طَالَ عُمُرهُ ، وَحَسُنَ عَمَلُهُ » . (رواه الترمذي ).

“সেই ব্যক্তি উত্তম, যার বয়স দীর্ঘকাল ব্যাপী এবং কাজ সুন্দর।” (তিরমিযী, হাদিস নং- ২৩২৯)

Advertisement

বয়স দীর্ঘ হওয়াটা মুজাহাদার মাধ্যমে কাজে আসে, যখন সেই দীর্ঘ জীবনকে সুন্দর আমলে ভরে তোলা যায়।

উয়াইস আল-কারনী রহমাতুল্লাহি আলাইহির কথা ভাবুন। তিনি কী করতেন জানেন? “এটা হলো রুকূ‘ করার রাত,” বলে তিনি এক রুকূ‘তে গোটা রাত কাটিয়ে দিতেন। আর পরের রাতে বলতেন, “এটা হলো সিজদা করার রাত,” আর তিনি এক সিজদাতেই গোটা রাত পার করে দিতেন! (আল-গাযালী, এহইয়াউ ‘উলুমিদ্ দীন, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৬৩)। এমন নিষ্ঠা, এমন আত্মসমর্পণ! এই ছিল তাঁদের মুজাহাদা।

Advertisement

সাবিত আল-বানানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আরও কিছু উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি এমন সব ব্যক্তিকে দেখেছেন, তাঁদের একজন সালাত আদায় করতেন, অথচ তিনি হামাগুড়ি দেওয়া ছাড়া তাঁর নিজের বিছানায় আসতে পারতেন না। আবার কেউ কেউ এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন যে, তাঁদের দুই পা ফুলে যেত। তাঁদের ইবাদতের চেষ্টা-সাধনা এমন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, যদি তাঁদের বলা হত: “আগামী কাল কিয়ামত হবে!”, তাঁরা নাকি অতিরিক্ত কিছু পাওয়ার চিন্তাই করতেন না। তাঁদের প্রস্তুতি ছিল সব সময় পূর্ণ।

আবার, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শীতকালে ঘরের ছাদে দাঁড়িয়ে থাকতেন, যাতে ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায় এবং ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটে। গরমকালে ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতেন, যাতে গরমের কারণে ঘুম না আসে। আর কেউ কেউ তো সিজদারত অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন! (আবু বকর আল-জাযায়েরী, মিনহাজুল মুসলিম, পৃ. ১২৪)।

Advertisement

মাসরূক রহমাতুল্লাহি আলাইহির স্ত্রী বলেছেন, তাঁর স্বামী এত দীর্ঘক্ষণ সালাতে দাঁড়াতেন যে, তাঁর দু’পা ফুলে যেত। তিনি কসম করে বলেছেন, যদি তিনি সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় মাসরূক রহমাতুল্লাহি আলাইহির পেছনে বসতেন, তাহলে তাঁর প্রতি সহমর্মিতায় নাকি তিনি কেঁদেই ফেলতেন। (প্রাগুক্ত)

আর কিছু মানুষ তো এমন ছিলেন, যখন তাঁদের বয়স চল্লিশে পৌঁছাত, তাঁরা তাঁদের বিছানা গুটিয়ে রাখতেন আর তারপর আর কখনো সে বিছানায় ঘুমাতেন না! (প্রাগুক্ত)। চল্লিশের পর আরাম বাদ দিয়ে ইবাদতে পুরোপুরি ডুবে যাওয়া—এটা কি কম কথা?

Advertisement

আরেকটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা আছে পূর্ববর্তী এক পবিত্রা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীর। রাতের শেষ প্রহরে তিনি করুণ স্বরে ডাকতেন:

« إليك قطع العابدون دجى الليالى يستبقون إلى رحمتك ، وفضل مغفرتك ، فبك يا إلهى أسألك لا بغيرك أن تجعلنى في أول زمرة السابقين ، وأن ترفعنى لديك في عليين ، في درجة المقربين ، وان تلحقنى بعبادك الصالحين ، فأنت أرحم الرحماء ، وأعظم العظماء ، وأكرم الكرماء ، يا كريم ! » .

Advertisement

“হে আমার প্রভু! রাতের অন্ধকারে বান্দাগণ সবকিছু বয়কট করে তোমার দিকে আসে, তারা তোমার রহমত ও ক্ষমার দিকে দৌড়ায়; অতএব, হে আমার আল্লাহ! আমি তুমি ভিন্ন অন্য কারও কাছে নয়, শুধু তোমার কাছে আবেদন করছি যে, তুমি আমাকে অগ্রগামীদের প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত করে নাও, আমাকে তোমার নিকট-‘ইল্লীনে উঠায়ে নাও, আমাকে তোমার নিকটতম বান্দাগণের মর্যাদায় উন্নীত কর এবং আমাকে তোমার সৎ বান্দাগণের অন্তর্ভুক্ত কর; কেননা, তুমি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান, মহামহীয়ান, সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল, হে মহনুভব!” (আল-গাযালী, এহইয়াউ ‘উলুমিদ্ দীন, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪১৪)

তারপর তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন আর ফযর পর্যন্ত কাঁদতে কাঁদতে দু‘আ করতেন। (আবু বকর আল-জাযায়েরী, মিনহাজুল মুসলিম, পৃ. ১২৪)।

Advertisement

এই হলো মুজাহাদা। নিজের কামনা-বাসনাকে দমন করে, আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে আল্লাহর পথে অবিরাম চেষ্টা ও সাধনা। এটা শুধু অতীতের মহান মানুষদের গল্প নয়, এটা আমাদেরও পথ। নিজেদের ভেতরের শত্রুকে চিনুন, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন। কারণ, এই যুদ্ধেই রয়েছে আমাদের আসল সফলতা। এই লড়াই জিতলে বাকি সব যুদ্ধ আপনাতেই জয়ী হওয়া যায়।

Advertisement

গুগলে আমাদের আপডেট পেতে:

Add amir info bangla as a Preferred Source Google Preferred
Continue Reading
Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement