News
কোন ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করা উচিৎ
কোন ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করা উচিৎ
আগুন লাগলে প্রথম কাজ হলো নিরাপদে সরে যাওয়া। কিন্তু ছোট আগুন যদি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তাহলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। আর এখানেই ফায়ার এক্সটিংগুইশারের ভূমিকা অপরিহার্য। বাংলাদেশে ঘরে, অফিসে, কারখানায় বা রেস্তোরাঁয় লাল সিলিন্ডার দেখা যায়, কিন্তু অনেকেই জানেন না কোন ধরনের আগুনে কোন এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করতে হয়। ভুল এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করলে আগুন আরও বেড়ে যেতে পারে। আজকে এই লিখা থেকে সহজ ভাষায় জেনে নিতে পারবো আগুনের ধরনভেদে উপযুক্ত ফায়ার এক্সটিংগুইশার কোনটি এবং তা ব্যবহারের নিয়ম।
প্রথমে জেনে নেওয়া যাক আগুন কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে এগুলোকে ক্লাস A, B, C, D এবং K বলা হয়।
A-ক্লাস আগুনঃ সাধারণ দাহ্য জিনিস যেমন কাঠ, কাগজ, কাপড়, প্লাস্টিক বা আসবাবপত্র থেকে আগুন লাগলে এই ধরনের আগুনকে A ক্লাস। এ ধরনের আগুন সবচেয়ে সাধারণ হিসেবে ধরা হয়।
B-ক্লাস আগুনঃ পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, তেল বা অন্যান্য দাহ্য তরল থেকে যে সকল আগুন লাগে সে সকল আগুন হচ্ছে ক্লাস-বি আগুন।
C-ক্লাস আগুনঃ বিদ্যুৎসংযুক্ত যন্ত্রপাতি, তার বা সুইচবোর্ড থেকে আগুনের উৎপত্তি হলে এই ধরনের আগুনকে ক্লাস-C আগুন বলা হয়। এই ধরনের আগুন লাগলে এতে পানি ব্যবহার করা বিপজ্জনক কারণ এতে আগুনের মাত্রা আরো তীব্র হতে পারে।
ক্লাস D আগুনঃ দাহ্য ধাতু যেমন ম্যাগনেসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম এর মতো রাসায়নিক পদার্থ যে আগুনের উৎপত্তি হয় সে সকল আগুনকে ক্লাস-D আগুন বলা হয়। এই ধরনের আগুন সাধারণত কারখানায় বা কেমিক্যাল ল্যাবে লাগতে পারে।
ক্লাস K আগুনঃ রেস্তোরাঁ বা বাসার রান্নাঘরে সাধারণত রান্নার তেল বা চর্বি থেকে যে আগুনের তৈরি হয় সে সকল আগুনকে ক্লাস-K আগুন আগুন হিসেবে ধরা হয়।
কোন আগুনে কোন এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করবেন?
আগুনের ক্লাস ভেদে ভিন্ন ভিন্ন ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করা হয়। এখানে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের বাহ্যিক রঙ ও নামের উপরের শনাক্ত করা যায় সে ব্যাপারে তুলে ধরা হয়েছে।
পানির এক্সটিংগুইশার (লাল রং)ঃ শুধু ক্লাস A আগুনের জন্য। এটি আগুনের উৎস ঠান্ডা করে নেভায়। কখনো তেল বা বিদ্যুতের আগুনে ব্যবহার করা যাবে না।
ফোম এক্সটিংগুইশার (ক্রিম রং)ঃ ক্লাস A এবং B উভয়ের জন্য ভালো। ফোম আগুনকে ঢেকে অক্সিজেন বন্ধ করে। ফলে দ্রুত সময়ে আগুন নিভাতে সাহায্য করে।
ড্রাই পাউডার (ABC) এক্সটিংগুইশার (নীল রং)ঃ সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত। A, B এবং C তিন ধরনের আগুনেই ড্রাই পাউডার ফায়ার এক্সটিংগুইশার নেভাতে কাজ করে। পাউডার ছড়িয়ে আগুনের রাসায়নিক বিক্রিয়া বন্ধ করে। এই ধরনের এক্সটিংগুইশার বাসা ও অফিসের জন্য উপযুক্ত।
কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) এক্সটিংগুইশার (কালো রং)ঃ CO2 এক্সটিংগুইশার প্রধানত ক্লাস B এবং C আগুনের জন্য ব্যবহৃত হয়। গ্যাস আগুনকে ঢেকে অক্সিজেন সরিয়ে দেয়। বিদ্যুতের আগুনে নিরাপদ। কোনো অবশিষ্ট থাকে না।
ওয়েট কেমিক্যাঃ ক্লাস K আগুনের জন্য বা রান্নার তেলের আগুন নেভাতে সবচেয়ে কার্যকর।
ব্যবহারের আগে এক্সটিংগুইশারের গায়ে লেখা লেবেল পড়ে নিন। বাংলাদেশে অধিকাংশ জায়গায় ABC পাউডার টাইপই পাওয়া যায়।
ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের নিয়ম
ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের জন্য PASS পদ্ধতির নিয়ম মেনে ব্যবহার করা সহজ। যেকোনো এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করতে এই সহজ চার ধাপ মনে রাখলেই যথেষ্ট।
প্রথম ধাপঃ সেফটি পিন টেনে খুলে ফেলুন।
দ্বিতীয় ধাপঃ নজল বা হোস নিচের দিকে, আগুনের গোড়ায় লক্ষ্য করুন। উপরে নয়।
তৃতীয় ধাপঃ হ্যান্ডেল চেপে ধরুন। ধীরে ধীরে চাপুন।
চতুর্থ ধাপঃ আগুনের গোড়ায় পাশাপাশি ঘোরাতে থাকুন যতক্ষণ না আগুন নিভে যায়।
উপরোক্ত পদ্ধতি মেনে আগুন একবার নিভে গেলেও কিছুক্ষণ সময় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতে হবে, আবার জ্বলে উঠতে পারে। এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের সময় দরজা খোলা রাখুন যাতে পালানোর পথ থাকে।
সতর্কতাঃ
প্রথমে আগুনের অবস্থা সম্পর্কে বুঝতে হবে। যদি বড় হয় বা ধোঁয়া বেশি হয়, তাহলে ইমার্জেন্সি ৯৯৯-এ ফোন করে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে। প্রতি বছরে ফায়ার এক্সটিংগুইশার চেক করাতে হবে। প্রত্যেক বাসায় অন্তত একটি ABC টাইপ এক্সটিংগুইশার শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
গুগলে আমাদের আপডেট পেতে:
Add amir info bangla as a Preferred Source
জুবাযের
May 13, 2026 at 6:24 pm
এখানে বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সত্যি বলতে, এটা খুঁজে পেয়ে আমি খুব খুশি।