ইসলামিক খবর
সিলেট আলহেরা এলামনাইয়ের জমকালো ইফতার, ঘোষণা হলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি: আলোড়ন সৃষ্টিকারী যত সিদ্ধান্ত!
সিলেট আলহেরা এলামনাইয়ের জমকালো ইফতার, ঘোষণা হলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি: আলোড়ন সৃষ্টিকারী যত সিদ্ধান্ত!
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!
সিলেট আলহেরা এলামনাইয়ের জমকালো ইফতার, ঘোষণা হলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি
সিলেটের হোটেল মিরা গার্ডেন, সিলেট, ৭ মার্চ ২০২৬ সিলেটের বুকে সেদিন এক অন্যরকম উৎসবের আমেজ। রমজানের ১৭ তারিখে, পবিত্র এক শনিবার বিকেলে । এক কথায় অসাধারণ! আলহেরা এলামনাই এসোসিয়েশন, সিলেটের উদ্যোগে আয়োজিত ৩য় বারের মতো ইফতার মাহফিল ছিল শুধু খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন নয়, বরং দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বের এক মিলনমেলা। প্রিয় ভাইদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো পরিবেশটাই যেন এক নতুন প্রাণ পেল। শুধু ইফতার নয়, এটি ছিল মিলনমেলা, যেখানে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বোনা হয়েছে; ঘোষণা এসেছে নবগঠিত কার্যকরী কমিটির। আর হ্যাঁ, একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত সবার সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সত্যি বলতে, এই ইফতার মাহফিল আলহেরা এলামনাইয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। অনেকে বলছেন, এই আয়োজন কেবল পেটে ক্ষুধা মেটানোর জন্য ছিল না, এটি ছিল আত্মার এক বিশাল তৃপ্তি!
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ! এই পবিত্র আয়োজনে সবার উপস্থিতি, আন্তরিকতা মন ছুঁয়ে গেছে। পুরনো বন্ধুদের দেখা, হাসি-আড্ডা, আর একই ছাদের নিচে সবাই মিলে ইফতারের অপেক্ষা – এসবই যেন ভ্রাতৃত্বের এক নিবিড় বন্ধন তৈরি করেছিল। ঘড়ির কাঁটা যখন ইফতারের সময় জানান দিচ্ছিল, তখন এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে, যা কেবল দোয়ায় ভঙ্গ হয়। পরে আবার শুরু হয় প্রাণবন্ত আলাপচারিতা। অনেকেই বলছিলেন, এমন একটি আয়োজন সত্যিই খুব দরকার ছিল। এক দিকে যেমন একে অপরের খোঁজখবর নেওয়া গেল, তেমনই আগামী দিনের পথচলা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আলহেরা জামেয়ার প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের এমন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর একত্রিত হওয়া, বিশ্বাস করুন, খুবই বিরল। শহরের ব্যস্ততার মাঝেও এতগুলো পরিচিত মুখের সমাগম যেকোনো সংগঠকের জন্যই গর্বের বিষয়।
আর এই ঐতিহাসিক ইফতার মাহফিল থেকেই আলহেরা এলামনাই এসোসিয়েশন, সিলেটের নবগঠিত কার্যকরী কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত একঝাঁক তরুণ ও অভিজ্ঞ মুখ। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সুজাউল কবির শামীম। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে সংগঠন যে নতুন গতি পাবে, তা বলাই বাহুল্য। সেক্রেটারি হিসেবে থাকছেন আব্দুল্লাহ আল মোনায়েম – যিনি এই অনুষ্ঠানের মূল সমন্বয়কও বটে, তার সাংগঠনিক দক্ষতা এদিনের সফলতার মূল চাবিকাঠি। অর্থ সম্পাদক পদে রয়েছেন মুহা. মাহফুজ নাঈম, তার হাতেই থাকবে সংগঠনের আর্থিক স্বচ্ছতার গুরুদায়িত্ব। আর প্রচার ও আইটি সম্পাদক হিসেবে কাজ করবেন আমির হোসেন, যার কাঁধে চাপবে সংগঠনের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ভার। এই কমিটি নিঃসন্দেহে সংগঠনের লক্ষ্য পূরণে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে, এমনটাই আশা করছেন প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা।
সিলেট আলহেরা এলামনাইয়ের আলোড়ন সৃষ্টিকারী যত সিদ্ধান্ত!
ইফতারের পর সবাই মিলে আলোচনা করেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর অবাক করার মতো ব্যাপার হলো, প্রতিটি সিদ্ধান্তেই ছিল সবার স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন। মনে হচ্ছিল, সবাই যেন একই ছন্দে বাঁধা। আসুন, জেনে নিই সেই আলোড়ন সৃষ্টিকারী সিদ্ধান্তগুলো:
১. পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা: যদিও কার্যকরী কমিটির প্রধান পদগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, খুব শিগগিরই একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি সবার সামনে আনা হবে। এতে আরও অনেক প্রাক্তণ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যাবে। বুঝতেই পারছেন, একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হতে চলেছে, যেখানে সবার মেধা ও শ্রমের প্রয়োজন হবে।
২. আলহেরা কেন্দ্রিক শিক্ষা বৃত্তি ও স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার: এটা হয়তো সবচেয়ে প্রশংসনীয় উদ্যোগ! আলহেরা জামেয়ার বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি চালু করা হবে। এর পাশাপাশি স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে। ভাবুন তো, আমাদের ছোট ভাই-বোনদের জন্য এর চেয়ে ভালো খবর আর কী হতে পারে? তাদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর এমন সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। এই উদ্যোগ আলহেরা জামেয়ার মান উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখবে।
৩. এলামনাই ফান্ডের জন্য নির্দিষ্ট অনুদান: সংগঠনের নিজস্ব একটা ফান্ড থাকা ভীষণ জরুরি। আর এই ফান্ড গড়ে তোলার জন্য সবাই মিলে একটা নির্দিষ্ট অংকের টাকা নির্ধারণ করেছেন। প্রতি বছর ১২০০ টাকা, যা দুইবারে (৬০০+৬০০ টাকা) দেওয়া যাবে। চাইলে একসাথেও কিন্তু দেওয়া যায়। এই ‘সাদাকা’ সরাসরি সংগঠনের নিজস্ব একাউন্টে জমা হবে। অর্থ সম্পাদক মাহফুজ নাঈমই এর দায়িত্বে থাকবেন। তিনি এই ফান্ড ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন। শীগ্রই এর পেমেন্ট মেথড জানিয়ে দেওয়া হবে। সাদাকা বলছেন বটে, আসলে এটা আমাদের নিজেদের ঘরের জন্য একটা বিনিয়োগ – ভবিষ্যতের জন্য, আমাদের জামেয়ার জন্য। এই ধরনের আর্থিক সংহতিই একটি শক্তিশালী এলামনাইয়ের ভিত্তি তৈরি করে।
৪. বার্ষিক শিক্ষা সফর: প্রতি বছর একটি শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক শিক্ষা সফর আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সত্যি বলতে, শুধু লেখাপড়া বা কাজ নয়, মাঝে মাঝে একটু ঘুরে আসাটাও খুব দরকার। এতে যেমন নতুন কিছু শেখা যাবে, অজানা স্থান দেখা হবে, তেমনই ভাইদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। বেশ মজার একটা ব্যাপার, তাই না? এটি কেবল ভ্রমণ নয়, এটি এক নতুন অভিজ্ঞতার দুয়ার খুলে দেবে।
৫. নিজস্ব ম্যাগাজিন প্রকাশ: আলহেরা এলামনাইয়ের নিজস্ব একটা ম্যাগাজিন প্রকাশিত হবে। শুনেই বেশ আনন্দ লাগছে! প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা এখন থেকেই তাদের লেখা প্রস্তুত রাখতে পারেন। কবিতা, গল্প, স্মৃতিচারণ, প্রবন্ধ – যা খুশি লেখা যাবে। নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতা প্রকাশের দারুণ একটা প্ল্যাটফর্ম হবে এটা, যা প্রাক্তণদের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর করবে।
এইসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য একটাই – আলহেরা জামেয়ার সার্বিক উন্নয়ন। একইসাথে আমাদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা। সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মোনায়েম জোর দিয়ে বলেছেন, “আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। তবে আপনাদের সবার স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ছাড়া কোনো বড় কাজই সফল হয় না।” কথাটা কিন্তু ভীষণ সত্যি। জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।
আলহেরা এলামনাই এসোসিয়েশন, সিলেট যেন এক পরিবারের মতো। এই ইফতার মাহফিল সেই পরিবারের সদস্যদের একত্রিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের পথচলার একটা সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনাও দিয়ে গেল। আশা করি, নবগঠিত কমিটি এবং সকল সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আলহেরা জামেয়া ও তার প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। এই পথচলায় সবাই পাশে থাকবেন, এটাই প্রত্যাশা।
গুগলে আমাদের আপডেট পেতে:
Add amir info bangla as a Preferred Source